রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম শহীদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত মানববন্ধনে অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেন তারা। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত সমন্বয়ক শহীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। হামলার পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে তাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, শহীদ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মহিলা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। সে সময় ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে লাঠি-রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে চলে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন মিলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে ছাত্র আন্দোলনের রাবির আরেক সমন্বয়ক আকিল বিন তালেব বলেন, ‘এই কাপুরুষোচিত হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি ন্যায়ের সংগ্রামের চেতনাকে স্তব্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাই।’
এদিকে, এই হামলার প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে রাবিতে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ‘স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশন’।
মানববন্ধনে স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাজন বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকাল আমাদের অন্যতম সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম শহীদের ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। আমি মনে করি, এটি পরিকল্পিত হামলা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা দেখছি, সমন্বয়কদের ওপরে হামলা হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজার সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি মেহেদী সজীব বলেন, ‘যখন জুলাই আন্দোলনে আমরা কাউকে পাচ্ছিলাম না, তখন শহীদকে পেয়েছিলাম। তখন কেউ নাম দেওয়ার মতো ছিল না, কিন্তু ১৭ সমন্বয়কের ভেতরে তিনি একজন ছিলেন। তিনি জুলাই আন্দোলনে আমাদের একজন সহযোদ্ধা। যারা চেয়ারে বসে আছেন, তারা যদি দ্রুত সময়ে হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনতে পারেন তাহলে চেয়ার থাকবে না।’
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।