২৭ জানুয়ারির মধ্যে মাইলেজের সুরাহা না হলে ট্রেন চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি

আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক দেওয়া এবং নিয়োগপত্রের দুই শর্ত প্রত্যাহার করা না হলে ২৮ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী পুরাতন রেলস্টেশনে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মজিবুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের রানিং স্টাফরা ১৬০ বছর ধরে অবসরের পর মাইলেজের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক পেয়ে আসছেন। রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক যেকোনও দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ট্রেন সচল রাখেন রানিং স্টাফরা। তাদের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি বা জাতীয় দিবসের বন্ধ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেদের দুর্নীতি ও অর্থ অপচয় ঢাকতে অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর রেলওয়ের রানিং স্টাফদের বেতন, পেনশন ও আনুতোষিক কমিয়ে দেয়।

‘বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় রানিং স্টাফদের প্রাপ্যতার পক্ষে থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় জটিলতা সৃষ্টি করছে। ২০২২ সালের পর নিয়োগপত্রে দুটি শর্ত আরোপ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে– নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের জন্য রানিং অ্যালাউন্স ছাড়া অন্য কোনও ভাতা পাবেন না এবং মাসিক রানিং অ্যালাউন্সের পরিমাণ মূল বেতনের চেয়ে বেশি হবে না। এ ছাড়া অবসরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বশেষ আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে পেনশন ও আনুতোষিক পাবেন, যা রেলওয়ের কোনও আইনে উল্লেখ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনবার সময় দেওয়া হয়েছে। তারা স্থায়ী সমাধান চান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পত্র এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া রানিং স্টাফদের বৈষম্যমূলক শর্ত প্রত্যাহার না করলে কর্মবিরতি পালন করা হবে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, সহ-সভাপতি খুরশিদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর এবিএম শফিকুল আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটিই) রেলওয়ের রানিং স্টাফ বোঝানো হয়। ৮ ঘণ্টার কর্মদিবস থাকলেও তাদের গড়ে ১৫-১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এ কারণে তাদের বেতনের সঙ্গে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়, যা রেলওয়ের ভাষায় ‘মাইলেজ’ নামে পরিচিত। প্রতি ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালালে রানিং স্টাফরা মূল বেতনের এক বেসিক সমপরিমাণ অর্থ বেশি পান।