বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর কমিটিতে বিতর্কিতদের পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের সমন্বয়করা। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমন্বয়ক জি কে ওমর ফারুক বলেন, ‘যারা ৫ আগস্টের স্পিডকে ধারণ না করে বিভিন্ন অপকর্মে যেমন– বিআরটিসি অফিসে হামলা, আওয়ামী দোসরদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা, ইউএনও অফিসে চাঁদাবাজি, ডিআইজি অফিসে হামলা, খুনি আসামিকে ছাড়ানোর জন্য মধ্যরাতে বিভাগীয় কমিশনারকে ফোন করে সুপারিশ করার প্রস্তাব এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে শহরে দুটি মারামারি ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে মারামারি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করার আগে এই অভিযোগগুলো কেন্দ্রীয় প্রতিনিধির টিম লিডার লুৎফর রহমানকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেছেন। কমিটিতে বিভিন্ন সংগঠনের পদধারী ছাত্রনেতাদের বিনা অনুমতিতে পদায়ন করা হয়েছে। যারা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এই কমিটিতে উপেক্ষিত হয়েছেন।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করছি, তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় নেবেন। কারণ, বিতর্কিত লোকদের সঙ্গে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অর্ধশতাধিক ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ মহানগর এবং পরদিন রবিবার (২৬ জানুয়ারি) ছয় মাসের জন্য ময়মনসিংহ জেলা কমিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।