স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘মানবিক ও পরিবেশের দিকে খেয়াল রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করবেন। কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেন সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। নতুন কোনও আয়নাঘর যাতে সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সশস্ত্র বাহিনী এবং কৃষি দফতরের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মো. জাহাঙ্গীর আলম সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তি দূর করতে হবে। অযৌক্তিক দাবিদাওয়া না করে সুনির্দিষ্ট মাধ্যমে দাবি করুন।’
‘হাইওয়ে পুলিশ সতর্ক হলে চাঁদাবাজি অনেক কমে যাবে’ উল্লেখ করে তিনি হাইওয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে ও দুর্নীতি বন্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
অপারেশন ডেভিল হান্ট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘যারাই অপরাধী তারাই ডেভিল হান্ট অপারেশনে ধরা পড়বে। এ ক্ষেত্রে কে ছোট কে বড়– সেটা দেখা হবে না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও আমরা ছাড় দিইনি। প্রথম দিনেই পাঁচ জনকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বড়-ছোট কোনও ভেদাভেদ নেই।’
ব্যক্তি আক্রোশে ৫ আগস্টের পর অনেকের নাম মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, ডেভিল হান্টে সেগুলো চিহ্নিত করা হবে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্দোষ ব্যক্তি যেন কোনও অবস্থায় শাস্তি না পায় সেজন্য যত ধরনের ব্যবস্থা আছে আমরা তা নিচ্ছি। কোনও নির্দোষ ব্যক্তির কোনোভাবে যেন সাজা না হয় সেজন্য আমরা কমিটি করে দিয়েছি।’
বিডিআর বিদ্রোহে যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা চাকরিতে ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘যদি কেউ দোষী হয়ে চাকরি হারায় তাহলে তাকে ফেরানো উচিত না। নির্দোষ হলে আদালতের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।’
এ সময় মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করায় উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি ভারতীয় সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপদেষ্টা আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আরএমপি সদর দফতরে রাজশাহী বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় আরএমপি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম।
সভায় রাজশাহীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় আইজিপি বর্তমানে সারা দেশের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আরএমপি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি, রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ রাজশাহী বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।