পবিত্র ঈদুল আজহার আর কদিন মাত্র বাকি। এখন ময়মনসিংহের কোরবানির হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু বেচাকেনা এখনও জমে ওঠেনি। ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত প্রাণী থাকলেও দাম অনেকটাই চড়া।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলায় এবার ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪ হাজার ৬৩৫টি খামারে ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৮টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করা হয়েছে। আর ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৮৮৯টির। এই হিসেবে জেলায় উদ্বৃত্ত গবাদিপশুর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৯৯টি।
সরেজমিন ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন কোরবানির হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু উঠেছে এবং ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু বেচাকেনা খুবই কম। ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা বেশি দাম চাওয়ায় সাধ্যের মধ্যে তারা কিনতে পারছেন না। ঈদের এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি থাকায় বিক্রেতারা দাম কমাচ্ছেন না। অপেক্ষা করছেন বেশি দামে বিক্রির জন্য। কিন্তু বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা বাজারে এসে দাম যাচাই-বাছাই করছেন। দাম কম বলার কারণে তারা কোরবানির প্রাণী বিক্রি করতে পারছেন না।
বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার খামারে ১২টি দেশি ষাঁড় গরু রয়েছে। দুই দিন ধরে বিভিন্ন বাজারে উঠিয়েছি। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার কারণে একটিও বিক্রি করতে পারিনি। লালন-পালনে অনেক খরচ হয়ে গেছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে লোকসানে পড়তে হবে। তবে শেষের দিকে ভালো দাম পাওয়া যাবে আশায় আমরা অপেক্ষা করছি।’
ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ওয়াহেদুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জেলায় ৫২টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন এই টিম বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে মনিটরিং করছে। কোনও বিক্রেতা যেন অসুস্থ প্রাণী বিক্রি করতে না পারেন সে ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি।’
তিনি আরও জানান, সারাবছর খামারগুলোতে তাদের মনিটরিং ছিল। খামারিরা কী খাওয়াচ্ছেন এবং ক্ষতিকারক কোনও মেডিসিন ব্যবহার করছেন কিনা, সে ব্যাপারে তাদের জোরদার মনিটরিং ছিল।