প্রবল স্রোত ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে পদ্মা নদীতে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পদ্মার ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির আওতাধীন উদয়নগর বিওপির প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা। বর্তমানে শুধুমাত্র একটি ওপি পোস্ট, সিগন্যাল টাওয়ার, গোলঘর ও এমটি গ্যারেজ ছাড়া অন্যান্য সব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও যেকোনও সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উদয়নগর বিওপি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে, বিজিবি সদর দফতরের দিকনির্দেশনার আলোকে গত মাসের ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানান্তরযোগ্য সরঞ্জামাদি আগেই পার্শ্ববর্তী চরচিলমারী বিওপিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে, ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে অবশিষ্ট অস্ত্র, গোলাবারুদ, অফিসিয়াল নথিপত্র, যানবাহন, চারপায়া ও জনবল জরুরি ভিত্তিতে নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোটের মাধ্যমে নিরাপদে চরচিলমারী বিওপিতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সব সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল আইটেম সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ রয়েছে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় পোলাডাংগা বিওপি বর্তমানে পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা থেকে মাত্র ২ মিটার দূরত্বে এবং শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর বিওপি মাত্র ১৪ মিটার দূরত্বে অবস্থান করছে। ভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য পোলাডাংগা বিওপির প্রয়োজনীয় মালামাল, অস্ত্র-গোলাবারুদ, যানবাহন ও সিগন্যাল সরঞ্জামাদি পার্শ্ববর্তী ডিএমসি বিওপিতে ইতোমধ্যেই স্থানান্তর করা হয়েছে। বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব বিওপিগুলো রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।