জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে দেশটাকে গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে। গ্রাস করার চেষ্টা চলছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে তারা এ কাজ করছে। এ জন্য আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অম্লান রাখতে হবে। তারা দেশটাকে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করতে চায়। কিন্তু এটা করতে দেওয়া যাবে না। সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে।’
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ সময়ের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে চেষ্টা করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার। তাদের মনোভাব, ৭১ যেন হয়নি, এই দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কোনও অবদান রাখেননি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তারা সবকিছু করেছে– তারা এমন ধারণা দিচ্ছে।
‘দেশটা আমাদের, এই মাটি আমাদের। এই মানুষগুলোকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে হবে। ১৯৭১ সালে খালেদা জিয়া তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে পাকবাহিনীর হাতে কারাভোগ করেছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বুকের ভেতর আছে, যা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘৭১-এ আমাদের হাজার হাজার নিরপরাধ ভাইদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের অত্যাচারে অনেকেই দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে লুকিয়ে ছিল। আমাদের মা-বোনদের অন্যায়ভাবে অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই দিনগুলোকে ভুলিয়ে দিতে চাইলে কি আর ভুলে যাওয়া সম্ভব! সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর যোগসাজশে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।’
নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি মহল নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ করা, এই দেশের সর্বনাশ করা। এখন একটি নির্বাচিত সরকারের খুব দরকার।’ এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক নুর করিম।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব সাদেক আহমদ খান, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মনসুর আলী সরকারসহ অনেকে।