শরীয়তপুরে শিশু হত্যার দায়ে দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুর শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যার দায়ে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং একজনকে তিনটি ধারায় মোট ২১ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (সিনিয়র ও দায়রা জজ) আদালত। মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত থেকে আসামিদের আদালত হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো– সিয়াম হোসেন, শাকিল হোসেন গাজী। এ ছাড়া তুহিন গাজী (১৫) এক কিশোরকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশু নিবিড় শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী মনির খানের ছেলে। ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর মুক্তিপণ হিসেবে হৃদয়ের মায়ের কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত চার জনকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ আগস্ট ভোরে খিলগাঁও এলাকার একটি ইটভাটার পাশের নির্জন স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে শিশুটির দাদা আজগর আলী খান বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় সিয়াম হোসেন, শাকিল হোসেন গাজী, ১৫ বছর বয়সী তুহিন গাজীসহ চার জনকে।

নিহত নিবিড়ের মা নিপা আক্তার বলেন, ‘তুহিন গাজীর রায়ে আমি সন্তুষ্ট না। শিশু বলে তাকে সাজা কম দেওয়া হয়েছে। তুহিন হচ্ছে প্রধান পরিকল্পনাকারী। আর সিয়াম হোসেন ও শাকিল হোসেন গাজী রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমার দাবি, উচ্চ আদালতেও যেন হত্যাকারীরা আপিল করেও কোনও রকমের ছাড় না পায়।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শরীয়তপুরের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) কামরুল হাসান বলেন, ‘২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সিয়াম ও শাকিলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। অন্যদিকে আসামি তুহিন শিশু হওয়ার কারণে তিনটি ধারায় ৫, ১০ ও ৬ বছর করে মোট ২১ বছর আটকাদেশ দেন বিচারক। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।’

আসামি পক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘যারা মূল অপরাধ করেনি, তাদের বড় সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট না। ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’