ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় ভিড়, বেড়েছে বেচাকেনা

নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলের স্থায়ী প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জমে উঠেছে। মেলা শুরুর পর দ্বিতীয় শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়। বেলা ১১টার পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুর গড়াতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলার ভেতর ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেলার প্রধান প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ লাইন। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ এসেছেন কেনাকাটার জন্য, কেউ-বা এসেছেন ঘুরে দেখতে। মেলায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আর মেলা শেষে বাড়ি ফেরা দর্শনার্থীদের হাতে হাতে দেখা গেছে কেনাকাটার ব্যাগ, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় অধিকাংশ দোকানি বিক্রি বাড়াতে দিয়েছেন বিশেষ ছাড়। কোথাও ‘বাম্পার অফার’, কোথাও ‘রাজকীয় অফার’, আবার কোথাও ‘একটি কিনলে দুটি ফ্রি’— এমন নানা লোভনীয় প্রস্তাবে ভালো সাড়া পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিক্রি বেড়েছে বলে জানান অনেক স্টল মালিক।

মেলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। মেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। আর্থিক লেনদেন সহজ করতে কয়েকটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সুবিধাও রাখা হয়েছে।

তবে দর্শনার্থীদের ভিড়ের প্রভাব পড়েছে সড়কেও। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় এশিয়ান বাইপাস সড়ক, গাজীপুর বাইপাস ও ভুলতা-কাঞ্চন সড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। তবুও যানজটের কারণে মেলায় আসা দর্শনার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। রাস্তা দখল করে অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে বসা ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল এলাকার ভুঁইয়া স্টিল কিং অ্যান্ড ফার্নিচারের মালিক গোলজার হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর ২টায় বাণিজ্যমেলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় মেলার গেটে পৌঁছেছি। অথচ ভুলতা থেকে মেলায় যেতে সাধারণত ১৫ মিনিট সময় লাগে।’

রাজধানীর নিকুঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী বিবান হাসান বলেন, ‘এ বছর প্রথমবার বাণিজ্য মেলায় এসেছি। দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে মেলায় ঢুকতে পারায় বেশ ভালো লাগছে। কারখানা ও সংসারের প্রয়োজনীয় কিছু আসবাবপত্র কিনতে এসেছি। বিশেষ অফারে একটি ইলেকট্রিক চুলাও কিনেছি।’

আড়াইহাজারের দুপ্তারা থেকে আসা রিয়াজুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘প্রতি বছর একাধিকবার মেলায় আসি। তবে এবার কিছু ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্য কম মনে হয়েছে। আবার নতুন নতুন কিছু কোম্পানির অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। বিশেষ অফারে একটি ব্লেজার কিনেছি। ছেলে-মেয়েদের জন্য শীতের পোশাকও নিয়েছি। দেশি-বিদেশি স্টল ঘুরে নতুন পণ্য দেখতে ভালো লাগে।’

কালিগঞ্জ থেকে আসা ফারুক মিয়া বলেন, ‘এবার মেলার পরিবেশ খুবই সুন্দর ও খোলামেলা। আগের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য কম দেখা যাচ্ছে। শিশুপার্কটিও বেশ পরিপাটি, যা পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।’

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান জানান, এ বছর ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলায় কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

ইপিবির মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার বলেন, ‘প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেও দর্শনার্থীরা মেলায় আসছেন। এখন পর্যন্ত মেলায় কোনও বড় সমস্যা দেখা যায়নি। বাকি সময়টুকু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শেষ করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

মেলায় আগতদের যাতায়াত সুবিধায় ঢাকার খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড এবং নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া থেকে বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে সরকারি ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে।