তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত মেলাটি দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেক জায়গায় পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
মেলার ষষ্ঠ দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখছেন। শীতের কারণে আগের কয়েকদিন ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও শুক্রবার চিত্র ছিল ভিন্ন। দর্শনার্থীদের ভিড়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্টল মালিক ও কর্মচারীরা।
তুর্কি ফ্যাশনের পরিচালক জায়েদ খন্দকার বলেন, শুরুর দিকে তীব্র শীতের কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে ছুটির দিনে মেলার পরিবেশ বদলে গেছে। প্রতিটি প্যাভিলিয়নেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে।
ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন জমাদ্দার বলেন, শুক্রবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দর্শনার্থী এসেছে। এর প্রভাব বিক্রিতে পড়েছে। আগের দিনের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে। মেলার শেষের দিকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে আগ্রহ ও উৎসাহ। আড়াইহাজার থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মিলন মিয়া বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছি। ভিড় বেশি হলেও পরিবেশ ভালো। প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনেছি। শেষের দিকে আবার আসার পরিকল্পনা আছে, তখন সাধারণত ছাড় বেশি থাকে।
বাড্ডা এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আলিফ হোসাইন বলেন, দুপুরের দিকে মেলায় ঢুকেই ভিড় দেখে অবাক হয়েছি। সব প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বেশি মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ছুটির দিনে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই মেলা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে মেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে।
শীতের প্রভাব কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আরও জমজমাট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।








