ধর্মঘট স্থগিতের পর সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর

শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার পর পুরোদমে কাজ চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জাহাজে পণ্য ওঠা-নামাসহ সব কাজ চলছে। এর আগে রবিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফার শ্রমিক-কর্মচারীদের একাংশের ডাকা ধর্মঘট মধ্যরাতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে, রবিবার ধর্মঘট ডাকা হলেও বন্দর চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মেনে দুপুর থেকে অধিকাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে আজ ধর্মঘট নেই। সব কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। গতকাল রবিবারও বন্দরে চলমান ছিল সব ধরনের কাজ।’

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের সন্তোষজনক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রমজানের পণ্য রিলিজ করার স্বার্থে এ ধর্মঘট কর্মসূচি সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ওই সময়ের মধ্যে আমাদের পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্দোলনের নামে চট্টগ্রাম বন্দরকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বন্দরের পাঁচ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরে হয়রানিমূলক বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনরত কর্মচারীদের নানাবিধ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনরত কর্মচারীদের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং বন্দরের আন্দোলনরত ১৬ জন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তসহ নানাবিধ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন। এর আগে ৩১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ দিন কর্মবিরতি পালন করা হয়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। ক্ষতি নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।