বাগেরহাটের কচুয়ায় ধানের শীষ ও ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থকের নাম ওসমান সরদার (২৯)। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড় নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওসমান সরদারসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।
নিহতের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার বলেন, ‘ওই এলাকায় ধানের শীষের লোকজন ঘোড়ার “লোকজন কই গেলো” বলে খুঁজছিল। সে সময় আমার ভাইসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে ওসমানের মাথায় আঘাত করে ধানের শীষের সমর্থকরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা খুলনায় পাঠান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, ‘ওসমান সরদারের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়েছে।’
সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। এই দুই প্রার্থীকেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটাতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।