চার দিন ধরে গ্রামের একজন দিনমজুর নিখোঁজ। পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি)। কিন্তু চার দিনেও পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সুযোগ পায়নি। শেষে গ্রামের মানুষজনই উদ্যোগী হয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়ান নিখোঁজ ব্যক্তিকে। পরে মৃত অবস্থায় তার খোঁজ মেলে গ্রামের একটি জমির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পানি চলাচলের কাঁচা নালার মধ্যে। সেখানে উপুড় অবস্থায় তার মরদেহটি পড়ে ছিল। খানিকটা আগুনে পোড়া।
ঘটনাটি নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের রবিবার রাতের। নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ খুঁজে পাওয়ার পর খবর দেওয়া হয় থানায়। পরে থানা থেকে পুলিশ এসে রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. খোকন (৩০)। তিনি দুই সন্তানের জনক। খোকনের বাবা একই গ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক। তিনি পেশায় রিকশাচালক। উদ্ধারের পর খোকনের মরদেহ চাটখিল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আজ সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিসিটিভির ফুটেজের ভিত্তিতে একজনসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন বাহার জানান, পেশায় দিনমজুর খোকন খুবই কর্মঠ ব্যক্তি ছিলেন। গাছকাটা, মাটি কাটাসহ যখন যে কাজ পেতেন করতেন। শুক্রবার সকালে খোকনের মা তাদের বাড়িতে এসে জানান, আগেরদিন বৃহস্পতিবার থেকে খোকনকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোনে রিং বাজলেও রিসিভ হয় না। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন তিনি তাকে থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তারা থানায় জিডি করেছেন। এরপর কেটে গেছে তিন দিন।
ইসমাইল হোসেন জানান, জিডি করার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এলাকায় বিষয়টির তদন্তের জন্য আসেনি। পরে এলাকা থেকে লোকজন গিয়ে রবিবার সন্ধ্যার পর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের আজকের (সোমবার) মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে এলাকার বাসিন্দারা গ্রামে ফিরে এসে পুরো গ্রামে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এর এক পর্যায়ে গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত মন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের ভাই মো. আজাদের জমির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পানি চলাচলের কাঁচা নালার মধ্যে উপুড় অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাটখিল থানার ওসি আবদুল মুন্নাফ। তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল রাতে গ্রামের একটি জমিতে তার লাশ পাওয়া যায়। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় সেটি খানিকটা আগুনে পোড়া মনে হয়েছে। লাশের পাশে জঙ্গলে আগুন জ্বালানোর আলামত দেখা গেছে। তবে লাশটিতে এরই মধ্যে পোকা ধরে গেছে।’
ওসি আরও জানান, উদ্ধারের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতে নিহত খোকনের সঙ্গে দেখা গেছে। আটক ব্যক্তিদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।