লিবিয়ায় অপহরণের শিকার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দুই প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির নিজেদের কক্ষ থেকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় রবিবার মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে বাগমারা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো– কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর উত্তরপাড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আল মামুন (৩৮) এবং সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল করিম (৪৭); একই এলাকার দক্ষিণহাটি মৌটুপি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী পরিষ্কার বেগম (৫৫)।
জানা যায়, বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বীরকুৎসা গ্রামের মৃত কছির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) এবং পার্শ্ববর্তী গোপিনাথপুর গ্রামের বাবলু হোসেনের ছেলে জিসান (২২) প্রায় চার বছর আগে দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়া যায়। সেখান থেকে গত রমজান মাসে বাংলাদেশের মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের যোগসাজশে লিবিয়ার একদল মাফিয়া তাদেরসহ চার জনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণকারীরা রাজ্জাক ও জিসানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২০ লাখ করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মাফিয়ারা ভিকটিমদের ওপর নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে দেয়। নির্যাতনের ভয়াবহতা দেখে উভয় পরিবার ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে চক্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠিয়ে দেয়।
জিসানের বাবা বাবলু হোসেন জানান, দশ লাখ করে পাওয়ার পর আরও পাঁচ লাখ করে চায়। এর মাঝে এ ঘটনায় রাজ্জাকের স্ত্রী মুন্নী এবং বাবলু হোসেন ১৫ এপ্রিল বাগমারা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুযায়ী মামলা করেন।
আরও জানা যায়, বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান আসামি গ্রেফতারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে উপ-পরিদর্শক শিহাব উদ্দীন কালক্ষেপণ না করে ওইদিনই অভিযান চালান। সঙ্গে ফোর্স নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও টাকা পাঠানোর প্রমাণাদির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানা এলাকায় তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। এতে লিবিয়ায় অবস্থানরত অপহরণকারী চক্রের বাংলাদেশি সহযোগী ও টাকা পাঠানোর ব্যাংক হিসাবধারীসহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এক পর্যায়ে মাফিয়ারা গত মঙ্গলবার অপহৃত দুজনকে মুক্তি দেয়। মুক্ত করে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে নিরাপদে পৌঁছে দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক শিহাব উদ্দীন বলেন, ‘দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে আব্দুর রাজ্জাক ও জিসান নিরাপদে রয়েছেন। আমার সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। ফ্লাইট শিডিউল ঠিকঠাক হয়ে গেলে অচিরেই তারা দেশে ফিরবেন।’
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘লিবিয়ায় অপহৃত দুই জন মুক্ত হয়েছেন। শিগগিরই তারা দেশে ফিরে আসবেন।’