বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীর এ নির্দেশ দেন।
হামিদুল আলম মিলন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেননি।
আদালত ও দুদক সূত্র জানায়, হামিদুল আলম মিলন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ছিলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মিলনের বিরুদ্ধে স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে দুদক একটি মামলা করেছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, শাহাজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব দেন। একই সঙ্গে স্বামীর সহায়তায় ২৬ কোটি এক লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ-দখলে রাখেন।
স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দ্বারা শাহাজাদী আলম লিপি তিন কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন। পরে তিনি সম্পদের উৎস গোপন বা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেন। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের সরকারি কৌসুলি (পিপি) আনোয়ার হোসেন জানান, মামলায় হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম মিলন। জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান কবীর জামিন মঞ্জুর না করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।
বগুড়ার কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আদেশের পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে, গত বছরের ১৭ নভেম্বর গ্রেফতার হয়েছিলেন সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন। ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠান সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ঈদুল ফিতরের কিছুদিন আগে তিনি জামিনে বের হন। এ ছাড়া চাকরিতে থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও একটি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। এ মামলায় মিলনের সঙ্গে তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে।