বগুড়ার শেরপুরে উপজেলায় চোর সন্দেহে রাফি মণ্ডল (২৪) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৪) নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চণ্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। রাত সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, নিহত রাফি বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের নাটাবাড়ি গ্রামের বুলু মণ্ডলের ছেলে। আহত জাহাঙ্গীর একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামে ইদ্রিস আলীর ছেলে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের চণ্ডেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচপাম্প পরিচালনা করে আসছেন। চুরি থেকে রক্ষায় তারা পাম্পের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস যুক্ত করেন।
মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করতে আসেন। এ সময় ওই ডিভাইস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুজনের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা (কল) চলে যায়। ডিভাইসের সংকেত পেয়ে তারা চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে চণ্ডেশ্বর গ্রামে এসে চারদিক ঘেরাও করে দুজনকে ধরে ফেলেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বেদম মারপিট করলে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে গ্রামবাসী রাফি ও জাহাঙ্গীরকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মারা যান। আহত জাহাঙ্গীর সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, নিহত রাফি মণ্ডলের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত জাহাঙ্গীর সুস্থ হলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।