পাবনায় পৃথক ঘটনায় এক কিশোরী ও এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে হাতবাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি ডোবা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর-পীরপুরসংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পদ্মার চরে কাজ করতে যাওয়ার সময় কয়েকজন কৃষক নদীর তীরে একটি বস্তা দেখে সন্দেহ হলে তারা কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, নিহত কিশোরীর বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। তার গলায় একটি রুপার চেইন ছিল।
স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় একটি অজ্ঞাত প্রাইভেটকার দেখা যায়। গাড়িটিতে চার জন যুবক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। নদীতীর থেকে বলরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি বিকল হয়ে গেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেটি ধাক্কা দিয়ে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ধারণা, অন্য কোথাও হত্যার পর ওই গাড়িতে করেই মরদেহ এনে নদীতীরে ফেলে রাখা হতে পারে। বলরামপুর স্কুলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অন্যান্য টিমের মাধ্যমে তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে।’
অন্যদিকে, জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়া এলাকায় নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তিন বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাম জিহাদ (৩) সে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের আগবহর গ্রামের জাফর ইকবালের ছেলে। গত ৩১ মে বিকাল ৫টার দিকে চরভাঙ্গুড়ায় নানাবাড়িতে অবস্থানকালে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ১ জুন তার বাবা ভাঙ্গুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ওই সময় শিশুটির বাবা জাফর ইকবাল জানিয়েছিলেন, চাকরির কারণে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার সাভারে বসবাস করেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে আসেন। পরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চরভাঙ্গুড়ায় বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন বিকালে তার ছেলে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
ভাঙ্গুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব কুমার বলেন, ‘শিশুটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বাকপ্রতিবন্ধী) ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডোবায় পড়ে ডুবে যাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহটি পচে ফুলে যাওয়ায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’