সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে। পাশাপাশি মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন পালন করছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং এর সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. আনান জানান, হামলায় ছয় জন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং পাঁচ জন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার-পাঁচ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারী তিন জনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ইউনিটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকেও ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা চলছে।’ তবে, বেলা পৌনে ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়নি বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে অসুস্থ এক শিশুকে নিয়ে তার স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। সে সময় কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজনরা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালের বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান এবং তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে এলে সংঘর্ষ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়, নগরীর বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং রোগীর আরও কয়েকজন স্বজন। আহতদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তবে কিছু সময় হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এ সময় কয়েকজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে লাঠি হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
সিলেট কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, ‘হাসপাতালে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতিতে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
অন্যদিকে, একই দাবিতে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দেন।