পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর-দিঘি এবং ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলার ১৫টি উপজেলা ও নগর মিলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৩ জন মানুষ। তাদের মধ্যে নগরীতে রয়েছেন ৮ হাজার এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০৩ জন। জেলার মধ্যে সাতকানিয়ায় সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ১৮ হাজার ৬১০ জন পানিবন্দি রয়েছেন।
এ ছাড়া হাটহাজারীতে ৭০ হাজার, সন্দ্বীপে ৫০ হাজার, বাঁশখালীতে ৩৮ হাজার, চন্দনাইশে ১২ হাজার, পটিয়ায় ৭ হাজার ১০ জন, সীতাকুণ্ডে ৫ হাজার ৬০৩ জন, রাউজানে ৫ হাজার, লোহাগাড়ায় ৪ হাজার, আনোয়ারায় ৩ হাজার ৫০০, মীরসরাই ও রাঙ্গুনিয়ায় ৩ হাজার করে, বোয়ালখালীতে ২ হাজার ৫৫০, ফটিকছড়িতে ২ হাজার ২৩০ এবং কর্ণফুলীতে ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জেলার পটিয়া উপজেলায় বন্যায় ১৫টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুর ও দিঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে রাউজান উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯০টি, চন্দনাইশে ১০টি ইউনিয়নের ৩৮৩টি, লোহাগাড়ায় ৯টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৬২০টি, মীরসরাইয়ে ৩টি ইউনিয়নে ৯৭টি, সীতাকুণ্ডে ৩টি ইউনিয়নে ১০টি, সন্দ্বীপে ১৩টি ইউনিয়নে ৪১২টি, বোয়ালখালীতে ৯টি ইউনিয়নে ৭৫৬টি, আনোয়ারায় ১১টি ইউনিয়নে ১ হাজার ১০০টি, বাঁশখালীতে ১৪টি ইউনিয়নের ২৫০০টি, ফটিকছড়িতে ১৮টি ইউনিয়নে ৫৩৩টি, হাটহাজারীতে ৮টি ইউনিয়নে ১৭০টি, কর্ণফুলীতে ৫টি ইউনিয়নে ৫৫৭টি এবং রাঙ্গুনিয়ায় ১২টি ইউনিয়নে ২৭০টি পুকুর-দিঘির মাছ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার ১৫টি উপজেলায় মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ৩ হাজার ২১১ দশমিক ৯২ হেক্টর পুকুর-দিঘি ও ৯০০ হেক্টর মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ৯১ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ক্ষতি হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।’
এ ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।