খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেলো ৬৫ লাখ টাকা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করে অব্যয়িত ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে ব্যয় হয় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। প্রশাসনের এ উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

পিআইও সূত্রে জানা গেছে, ২৫ এপ্রিল রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের (পি-২, বিপি-৮, বিপি-১৭) খালের ভূঁইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রিজ সংলগ্ন (ডাকাতিয়া নদী) পর্যন্ত ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটির ১৬ দশমিক ৪৩৯ মিটার পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়। ভরাট হয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহের সৃষ্টি ও খেতে সেচ দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমানো, শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল হাই খান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ পরও প্রায় ৬৫ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

চরমোহনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক (পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা) মো. আবদুস সাত্তার বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় করা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।’