ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে খাল খনন শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া। মঙ্গলবার তিনি এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তার এই কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি খাল পুনরায় খনন প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তিনটি খালের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। খননকৃত তিনটি খাল হচ্ছে আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার পর্যন্ত এবং দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত।
তিনটি খাল খননে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সরকারু বরাদ্দ থাকলেও কাজের নির্ধারিত মান বজায় রেখে খাল তিনটি খননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ টাকা। বাকি অব্যয়িত ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয় উপজেলা প্রশাসন।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন শেষে খালের পাড়ে দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা।
প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমাস উদ্দিন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। কাজের গুণগতমান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা, তা তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। প্রায় তিন মাসব্যাপী খনন কাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৬৪ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ গত মঙ্গলবার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠু বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত গেছে এমন ঘটনা আমরা খুব একটা শুনি না। ইউএনও দেখিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। আমরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, রাজনীতি যার যার জায়গায় থাকলেও ভালো কাজের প্রশংসা করতেই হবে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অব্যয়িত টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি। কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।









