সড়ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এতদিন রংপুরে ছুটতে হতো উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষকে। সেই ভোগান্তি কমাতে বগুড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) বগুড়া সড়ক জোন। এতে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের সড়ক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার কাজ এখন বগুড়া থেকেই পরিচালিত হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৪টায় বগুড়া সড়ক জোনের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ সড়ক জোনের আওতায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে রংপুরে যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। পরে সড়ক ভবনে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
শাহ্ ফতেহ আলী সেতুর উদ্বোধন
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ দিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ শাহ ফতেহ আলী সেতু উদ্বোধন করেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি জেলার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে।
এতে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও ধুনট উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জেলা শহরে যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৬ টাকা ২০ পয়সা ব্যয়ে নির্মিত শাহ্ ফতেহ আলী সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ১৫ মে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সময় বর্ধিত করে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি কাজ শেষ হয়েছে। আরসিসি ও পিসি গার্ডার সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৮.৭৫ মিটার ও প্রস্থ ৭.৩০ মিটার। দু’পাশে ফুটপাট রয়েছে, দুই মিটার করে মোট চার মিটার।
এছাড়া শাহ্ ফতেহ আলী সেতু চালু হওয়ায় বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের চার উপজেলার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য দ্রুত জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।