খুলনায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার ১৪ আগস্ট সকাল ৮টার পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এ নিয়ে এ বিভাগে ১২ জনের মৃত্যু হলো।

খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৫৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৬৫ জন।

খুলনা বিভাগ পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় ১৮ জন, বাগেরহাটে ২৮ জন, কুষ্টিয়ায় একজন ও মেহেরপুরে দুই জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ১৯১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৭৭৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬৫ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩৭ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৯ জনের মধ্যে তিন জন রয়েছে খুলনার। বাগেরহাটে একজন ও খুলনায় দুই মারা গেছেন।

এছাড়া খুলনায় ১২১ জন, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১৬ জন, বাগেরহাটে ৬২ জন, সাতক্ষীরায় একজন, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন জন, যশোরে ২৬ জন, ঝিনাইদহে তিন জন, মাগুরায় তিন জন, নড়াইলে ১৩ জন, কুষ্টিয়ায় ১১ জন, চুয়াডাঙ্গায় একজন ও মেহেরপুরে পাঁচ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে গত ১৩ আগস্ট প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলো।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে মশক নিয়ন্ত্রণে গৃহীত ক্রাশ প্রোগ্রাম বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সকালে নগরীর খান জাহান আলী রোডের সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সম্মুখে, দিলখোলা রোডে এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে উপস্থিত থেকে পৃথক পৃথকভাবে ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, খুলনার ডেঙ্গু সংক্রমণ মোকাবিলায় আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসরণ করে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু কেসিসির কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি নিরাপদ থাকার জন্য নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুলনার ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে ওয়ার্ড ভিত্তিতে কাজ করা হলেও আজ থেকে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, নগরীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হ্রাসে বুধবার বিকালে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ক্রাশ প্রোগ্রাম তদারকির জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করে তিন জন কর্মকর্তাকে অর্থাৎ, জোন ‘এ’ তে সচিব, জোন ‘বি’ তে প্রধান প্রকৌশলী এবং জোন ‘সি’ তে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। কামিটির অপরাপর সদস্যরা হলেন– জোন ‘এ’ তে নির্বাহী প্রকৌশলী-১ ও চিফ প্লানিং অফিসার, জোন ‘বি’ তে নির্বাহী প্রকৌশলী-২ ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং জোন ‘সি’ তে ভেটেরিনারি অফিসার ও কঞ্জারভেন্সি অফিসার।