মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১২ টন ইউরিয়া সার, রসুন ও পেঁয়াজসহ একটি বোট আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে বোটটি আটক করা হয়। এ সময় এক রোহিঙ্গা নাগরিকসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালান। গভীর সমুদ্রে সন্দেহজনক একটি বোটের গতিবিধি নজরে আসে তাদের। বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটি আটক করে।
বোটে তল্লাশি চালিয়ে ২৪০ বস্তায় ১২ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, ১৯০ বস্তায় ৩ হাজার ৮০০ কেজি রসুন এবং ৯০ বস্তায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি পেঁয়াজ পাওয়া যায়। কোস্ট গার্ডের হিসাবে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে বোটে থাকা ১০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পরিবহনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত জলসীমা ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করে থাকে। স্থল ও নদীপথে নজরদারি বাড়লে চোরাকারবারিরা সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি রয়েছে।
সেন্টমার্টিনের ছেঁড়া দ্বীপসংলগ্ন গভীর সমুদ্রে সর্বশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উদ্ধারের ঘটনায় সমুদ্রপথে পণ্য পাচারের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইউরিয়া সারসহ কৃষি উপকরণ দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা হলে তা অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তবে এ চালানের সঙ্গে কারা জড়িত এবং পণ্যগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দ করা পণ্য ও বোটও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।