পরিবেশ বিপর্যয়ে অস্তিত্বের হুমকিতে ঝালকাঠির কাঠালিয়া

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার ১০ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতশত একর ফসলি জমি, বসত ভিটা, ক্ষেতখামার। ফলে দিনদিন ছোট হয়ে আসছে ঝালকাঠি জেলার সর্বদক্ষিণের কাঠালিয়া উপজেলা।

ভাঙছে কাঠালিয়া উপজেলাজানা গেছে, নদী ভাঙনে যেকোনও সময় বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে শৌলজালিয়া ইউনিয়নের রঘুয়ারচর, দড়িরচর, জয়খালী, চিংড়াখালী, ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (আমুয়া), শত বছরের পুরনো আউরা ও আওরাবুনিয়ার দুটি বাজার, আওরাবুনিয়া ও কাঁঠালিয়ার দুই লঞ্চঘাট, এলাকার ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এছাড়া সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে অবিরাম বৃষ্টিপাত ও স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্নস্থানের বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ভাঙন প্রবণতা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত কোনও না কোনও এলাকা বিষখালী নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। চিংড়াখালী, জয়খালী, হেতালবুনিয়া, মশাবুনিয়া, বড় কাঁঠলিয়া, আমুয়া, আমুয়া পূর্বপাড়, তালগাছিয়ার দড়িরচর, রঘুরচর, আওরাবুনয়া, পূর্ব ছিটকী, জাঙ্গালিয়াসহ ১০ গ্রামের বাসিন্দারা দিন কাটাচ্ছেন ভাঙন আতঙ্কে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা,যেকোনও মুহূর্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে উপজেলার আমুয়া হাসপাতাল, ডাক বাংলো, আমুয়া স্টিমারঘাট, সরকারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চিংড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিংড়াখালী সিনিয়র মাদ্রাসা, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আউরা বাজার (গোড়ার হাট), কাঁঠালিয়া লঞ্চঘাট এলাকা, বড় কাঁঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আওরাবুনিয়া বাজার, আওরাবুনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জাঙ্গালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা, মনিরা ব্রিক ফিল্ডসহ অসংখ্য স্থাপনা।

কাঠালিয়া উপজেলাশৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন জানান, রোয়ানুর প্রভাবে গত শনিবার দুপুরে রঘুরয়ারচর ও দড়িরচর এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যেকোনও মূহূর্তে ৪টি স্কুল, একটি মাদরাসা ও একটি বাজারসহ তালগাছিয়ার তিনটি গ্রাম নদীতে চলে যেতে পারে।

কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. গোলাম কিবরিয়া সিকদার জানান, বিষখালী নদীর পূর্বপাড় বরগুনার অংশে টেকসই বেড়িবাঁধ থাকায় পক্ষান্তরে পশ্চিম পাড়ে কাঁঠালিয়া অংশের ২০ কিলোমিটার এলাকায় কোনও বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের সামান্য পানি বৃদ্ধিতে কাঁঠালিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রতিবছর ধানের ক্ষেত, পানের বরজসহ কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে প্রতি বর্ষা ও শীত মৌসুমে নদী ভাঙনের কবলে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শতশত পরিবার। দ্রুত কাঁঠালিয়া অংশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবিও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: কোস্ট গার্ডে আরও চারটি নতুন জাহাজ যুক্ত হচ্ছে
/এমও/