এদিকে, পুলিশি হয়রানির ভয়ে জনতা বাজারের বেশিরভাগ দোকান শুক্রবার বন্ধ রয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ বাড়ির পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবারের ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে রুম্মান (২৫) নামে এক যুবক নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী মো. জাহিদ, মো. জসিম, মো. সেলিম, মো. সবুজ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জনতা বাজার পুলিশ ক্যাম্পের কনস্টেবল আমিনুলের নেতৃত্বে চার কনস্টেবল একটি রাজনৈতিক মামলায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নিজাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে লাকড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। আর বলতে থাকে, ‘টাকা নিয়ে আয় তাহলে ছেড়ে দেব।’
এ ঘটনায় বাজারের লোকজন প্রতিবাদ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে একাধিক মামলার আসামি নাসির সর্দার পুলিশের হাত থেকে অস্ত্র নিয়ে গুলি করলে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এই গোলাগুলির মধ্যে পড়ে রুম্মান নিহত হন।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীন শুক্রবার জানান, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪০/৫০ রাউন্ড গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে করা গুলিতে রুম্মান নিহত হন।
তিনি আরও জানান, সঠিক প্রক্রিয়ায় নিজামকে গ্রেফতার করা হয়নি, তাই জনতা বাজার পুলিশ ক্যাম্পের সব সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. আকরাম হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
এ ঘটনা তদন্তে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্য বাড়াতে চায় আ. লীগ
/এসটি/এজে