লঞ্চ কেবিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরুর আগেই শেষ!

বরিশাল লঞ্চঘাটপবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রবিবার সকাল থেকে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ কেবিনের অগ্রিম টিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও, টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার সকাল থেকে লাইন দিয়েও অগ্রিম কেবিন টিকিট পাননি সাধারণ যাত্রীরা। খালি হাতে ছুটোছুটিই সার হয়েছে। অনেকেই কেবিন টিকেট আগাম নিতে এসে খালি হাতে ফিরেছেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সুরভী টিকিট কাউন্টারের এক কাউন্টারম্যান জানান, অধিকাংশ বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ কেবিনের টিকেটই স্লিপের মাধ্যমে নিয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজন। ফলে সাধারণ যাত্রীদের চাহিদামত বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ কেবিনের টিকিট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে কাউন্টারে আসা লোকজন তাদের চাহিদা মতো বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ কেবিনের টিকিট পাচ্ছেন না।
লঞ্চ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, যারা কেবিনের টিকিটের জন্য আগে স্লিপ দিয়েছেন তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন দেওয়া হচ্ছে। এর পরে থাকলে যারা আগে আসবেন তারা পাবেন। কারন বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চের অধিকাংশ কেবিনের টিকেটই স্লিপের মাধ্যমে নিয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকজন। কেবিন টিকিটের সংকট হলেও এবারে লঞ্চের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ডেক যাত্রীদের সমস্যা হবে কম।প্রয়োজনে ডাবল-ট্রিপ দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুন্দরবন, সুরভী, পারাবত ও কীর্তনখোলা, টিপুসহ বিভিন্ন লঞ্চের কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মানুষ।

ভাড়ার তালিকা ও টিকিট বিক্রির বিজ্ঞপ্তিও টানানো ছিল। তালিকায় এলাকাভিত্তিক টিকিটের মূল্যও টাঙানো ছিল।

সুন্দরবন বুকিং অফিসে পহেলা জুলাইয়ের টিকেট নিতে এসে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পাননি নগরীর সিএন্ড বি রোড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল হক টিকিট কিনতে এসে শোনেন পহেলা জুলাইয়ের কোন কেবিন নেই সব বুকিং দেওয়া।

এর পর দুই জুলাইয়ের একটি ডাবল কেবিন চাইলে ম্যানেজার জাকির হোসেন জানিয়ে দেন তাও শেষ। তিনি খোজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানান, ২, ৩, ৪ ও ৫ জুলাইয়ের টিকিটও কোন কাউন্টারে নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই ব্যক্তি ম্যানেজারকে উদ্দেশ করে বলেন, সব যদি আগেই শেষ হয় তাহলে আগাম টিকেট বিক্রীর এই নাটক না করলেই পারতেন!

নগরীর রুপাতলী থেকে আসা টিকিট প্রত্যাশী হামিদুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের লোকজন বরিশালের বাড়িতে আসবে। তাই কেবিনের টিকিটের জন্য খুব সকালেই এসেছি। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি একটা ডাবল কেবিনের টিকিটের আশায়। এখন শুনি টিকিট নেই। বিক্রি শুরু হলো কখন আর শেষ হলো কখন কিছুই বুঝলাম না।

বাংলাবাজার এলাকা থেকে আসা হোসেন তালুকদার বলেন, পরে এলে টিকিট পাওয়া যায় না। এ কারণেই আগেভাগে আসা। তারপরেও যদি টিকিট না পাই। ৩ তারিখের টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আরো কতো আগে আসলে টিকিট পাবো আল্লাহই জানে।

একই অবস্থা দেখা গেছে সুরভী, পারাবত ও কীর্তনখোলা বুকিং অফিসে গিয়ে। সুরভী লঞ্চের বুকিং কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে ৩০ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কোন কেবিন খালি নেই।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: ঈদে বাড়ি যাওয়ার ‘কায়দা-কানুন’