বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। সাত সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নূর-উর-রহমান, সদস্য সচিব ক্যাপ্টেন কে এম জসীম উদ্দিন সরকার, সদস্য মফিজুল হক, আবদুর রহিম তালুকদার, ড. গৌতম কুমার সাহা, বদরুল হাসান লিটন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
নৌ দুর্ঘটনা সম্পর্কিত স্থায়ী তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ক্যাপ্টেন কে এম জসীম উদ্দিন সরকার জানান, পিএস মাহসুদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নিহতের স্বজন, আহত ও যাত্রীদের সবাইকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়ে নগরীতে মাইকিং করা হলেও মাত্র ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় আহত স্টিমার পিএস মাহসুদের এক যাত্রী বাগেরহাটের স্কুলশিক্ষক খায়রুল বাসার, এবং পিএস মাহসুদের মাস্টার ইনচার্জ ইদ্রিস হোসেন, সহকারী মাস্টার ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন, সুকানি মাহাবুবুর রহমান, ইঞ্জিন ইনচার্জ আবদুল হামিদ, সহকারী ইঞ্জিন ইনচার্জ মো. শাহীন, বিআইডব্লিউটিএ’র পাইলট মো. শরীফ নামে ৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সুরভী লঞ্চের কেউ শুনানিতে না থাকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা ঢাকায় বসে সাক্ষ্য দেবে বলে জানিয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই দুর্ঘটনার পরপরই পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে কোনটিরই প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মো. তাফিজুর রহমান বলেন, এই দুর্ঘটনা তদন্তে ডিজি শিপিং একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। সেই কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি তার (নৌবন্দর কর্মকর্তা) প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। কমিটির সবার মতামত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এরপর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ গঠিত সাত সদস্যর তদন্ত দলের প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই ঢাকা থেকে ৭০০ যাত্রী নিয়ে পিএস মাহসুদ বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া অংশে পৌঁছালে ঢাকাগামী বেপরোয়া গতির সুরভী-৭ লঞ্চের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ৪ জুলাই ভোরে। এতে মাহসুদের ৪ যাত্রী নিহত এবং আরও ৮ যাত্রী গুরুতর আহত হন।
/এমও/