বরিশালে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মিষ্টি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

বরিশাল

 র‌্যাবের মোবাইল কোর্টের নামে হয়রানির প্রতিবাদে বরিশালের হোটেল রেস্তোরাঁ ও সুইট মিট ব্যবসায়ীরা বুধবার রাত থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করেছে। বৃহস্পতিবারও এ ধর্মঘট চলছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৮ এর উপ-পরিচালক মেজর সোহেল রানা প্রিন্স বলেন, বরিশালে র‌্যাবের যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে, তা আইনের ব্যাত্যয় ঘটিয়ে নয়। নিয়মানুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে আইন মোতাবেক জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানার ক্ষেত্রে নমনীয়ভাব বজায় রাখা হচ্ছে। আর কাউকে আটকও করা হচ্ছে না।

পাশাপাশি পঁচা-বাসি খাবার ও ভবিষ্যতে যাতে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার  বিক্রি না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। র‌্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি বরিশাল শাখার সভাপতি বিশুষ্ণু ঘোষ জানান, বরিশাল নগরে গত ২/৩ দিন ধরে র‌্যাব-৮ এর সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। সে অভিযানে যে পরিমাণ জরিমানা ধরা হচ্ছে, তা দোকানের অবস্থা ও ব্যবসার পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি। আর বরিশালের প্রেক্ষাপটে জরিমানা পরিশোধের মতো এতো পরিমাণ নগদ টাকা কোনও দোকানে থাকে না। অন্যদিকে জরিমানা দিতে না পারলে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই খাবারে হোটেল রেস্তোরাঁ ও সুইট মিট মালিকরা বুধবার রাতে এক সভার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্তা নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন,‘আমাদের দাবি হচ্ছে আমরা কিভাবে চলবো, কিভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবো, সে বিষয়ে কর্মশালা করে, আমাদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হোক।

এদিকে র‌্যাবের চলমান এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকে। নগরের কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী শাহীন বলেন, ‘খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধে আপাতত, নগরবাসীর অসুবিধা হলেও, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ীরা যেমন সতর্ক হবে। তেমনি ভোক্তারাও ভেজালমুক্ত ও স্বাস্থ্য সন্মত পরিবেশে খাবার খেতে বা কিনতে পারবেন। তা সবার জন্যই নিরাপদ হবে।