আহতরা হলেন— তানজিনা আফরোজ তমা ও তার স্বামী মেহেদী হাসান সাগর। তমা গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও মেহেদী ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
আহত মেহেদী হাসান জানান, গত শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বাবা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঝালকাঠিতে নিজ বাড়িতে যান তিনি। শনিবার (২৮ অক্টোবর) তার বাবার নামে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ শেষে জমি-জমা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় মেহেদীর মা ঝগড়া মিটিয়ে দেন।
পরে রবিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে তানজিনা ও সাগর ঘরে থাকার সময় সাগরের বোন সুখী বেগম, তার স্বামী করিম ও মামাতো বোন লাকী বেগম তাদের ঘরে ঢোকেন। এসময় তারা তানজিনা ও সাগরকে বাসা থেকে বের হতে বলেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুখী বেগম তানজিনাকে মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারলে গর্ভবতী তানজিনা আহত হন। তখন মেহেদী বাধা দিলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকেও মারধর করা হয়।
এদিকে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালীর বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের বাসায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তিনি তা অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উনারা আমাদের আত্মীয়। তাই আমি ঘটনার পর উপস্থিত হয়েছি। আমি সাংবাদিকদের বাধা দেইনি।’
আহত মেহেদীর মা জানান, তিন বছর ধরে তার ছেলে তাদের কাছে ছিল না। তিন দিন আগে মেহেদীর বাবা মারা যাওয়ার খবর পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় আসে। রবিবার জমি-জমা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এসআই দেলোয়ার। আহত চিকিৎসক দম্পতিকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ করা হলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’