এসময় মীর্জা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন একেবারেই সুন্দর হবে তা আমরা কখনোই ভাবি না। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক, প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক। বরিশালে একটি সম্প্রদায়ের কাছে আজ উৎসবের পরিবেশ রয়েছে, সেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ সম্প্রদায়ের। তাদের উৎসবের জন্য অন্য কারও ক্ষতি হোক বা হচ্ছে এটা তারা ভাবছে না।’
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন আমরা কাউন্সিলর প্রার্থী দিইনি, কিন্তু দিবো কিভাবে? যাদের দিবো তাদের তো জেলে পুরে দিবে। এখন তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, তাদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, বাড়িতে থাকতে পারছে না। আর যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের প্রথমে টাকা পয়সার লোভ দেখানো হয়েছে, পরে জোরজবস্তি, রিজিকের ওপরে হাত দেওয়া হয়েছে, সর্বোশেষ এখন পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে। এজন্য আমাদের অনেক প্রার্থী প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন, নয়তো লুকিয়ে আছেন।’
কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘৩০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলে সহসভাপতিকে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আবার সেই মামলায় অজ্ঞাত ১০ জন রাখা হয়েছে। মামলা হলে আসামিতো হবেই, তবে নামধারী হলে তো একটা বিষয় ছিলো, এখন অজ্ঞাত হওয়ায় কর্মীরা সবাই আতঙ্কে আছেন, কাকে কখন ধরে। আবার কিছুক্ষণ আগে নগরের কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় লিফলেট বিতরণ করার সময় পুলিশ কর্মীদের কাজে বাধা দিয়েছে। গতকাল বিকালে একটা পথসভা করছিলাম, দুজন পুলিশ এসে বললো করতে পারবো না। কেন পারবো না জানতে চাইলে উত্তর দিলেন না। আমরা কি কোনও পরাধীন দেশে বাস করি, যে কথা বলতে পারবো না। ১৯৭১ সালের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কোনও ব্যক্তি বিশেষের কাছে আমরা বিকিয়ে দেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতরাত থেকে বরিশালে একটা ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। একটা আশুরিক শক্তি নির্বাচনি পরিবেশটা ভৌতিক অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আশা করেছিলাম, একটা লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে। কিন্তু ওনাদের কথার ঠিক নেই, এখন নির্বাচন কমিশন অভিযোগও নিতে চায় না।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গাড়িতে স্টিকার লাগাচ্ছে, ঠেলাগাড়িতে করে নৌকা নিয়ে যাচ্ছে, নৌকার গেট সাজানো হচ্ছে, নৌকা বানিয়ে আলোকসজ্জা করছে। তারা আচরণবিধি মানছে না। কিন্তু তাদের কিছু হচ্ছে না। বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরমেয়ররা অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন বাসায় অবস্থান করছে। এর বড় প্রমাণ কিছুদিন আগে লঞ্চঘাটে অস্ত্র নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে এখনো অস্ত্রের মহড়া চলছে।’ তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্ডার এলাকায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বহিরাগত প্রচুর লোক নিয়ে আসা হয়েছে। যে লোকগুলো নির্বাচনের দিন দেখাবে ভোটার আছে ভোটকেন্দ্রে, নয়তো কোনও ঝামেলা করবে। আমি আশা করি, ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন তাদের বের করে দিবে নয়তো গ্রেফতার করবে ।’
আমাকে হোটেল থেকে নেমে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের যদি চলে যেতে হয়, তবে যেন ভোটারবিহীন বহিরাগত সবার বেলায় এই আইন কার্যকর হয়। বলেন, মির্জা আব্বাস। সবশেষে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী অত্যাচারকে পরাস্ত করে বিএনপির নেতাকর্মীরা অটুট মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, কাজ করে যাবে। বরিশালে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারেকে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে, কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে। গ্রেফতার আমি মনে করি বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য খুশির সংবাদ। কারণ আওয়ামী লীগ বিএনপি নেতাকর্মীদের এতোটাই ভয় পেয়েছে যে, তারা মানে করছে বিএনপির লোক বাইরে থাকলে তারা নির্বাচনে কারচুপি করতে পারবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভাইসে চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান আক্তার শিরিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।