শেবাচিমের ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

 

শেবাচিমবরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ছয় চিকিৎসক ও এক নার্সের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক অভিভাবক। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয়।

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা এলাকার বাসিন্দা আল আমিন জমাদ্দার মামলাটি করেন। তিনি শিশু ইসরাতের বাবা। ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে শেবাচিমে ইসরাত মারা যায়।

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন) তদন্তের পর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহা, ওই বিভাগের ইউনিট-৩ এর রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং শিশু বিভাগের ডায়রিয়া ইউনিট-২ এর নার্স, ওই ইউনিটের রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার। এছাড়া মামলায় আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান জামাল জানান, গত ২৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ করে শিশু ইসরাত অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটি জ্বর ও পাতলা পায়খানাজনিত রোগে ভুগছিল। তাকে অসুস্থ অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে শিশু ওয়ার্ডের ডায়রিয়া ইউনিটে পাঠান। ওই ইউনিটে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক (অজ্ঞাত) ইসরাতের বাবা আল-আমিন জমাদারকে স্যালাইন ও ওষুধ আনার জন্য স্লিপ লিখে দেন। কিন্তু ওই স্লিপ ৫ নম্বর আসামি সেবিকা সিপু ইসরাতের বাবার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ লেখা অপর একটি স্লিপ দিয়ে সেগুলো আনতে বলেন। সেবিকা সিপুর দেওয়া ওষুধ শিশু ইসরাতের শরীরে প্রয়োগ করা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে ইসরাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে শিশু ওয়ার্র্ডের ইউনিট-৩ এ পাঠানো হয়।ওই ইউনিটের চিকিৎসক রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়া স্বত্ত্বেও কোনও চিকিৎসা দেননি। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহাসহ অন্যরা ইসরাতের আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখেও তাকে চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলা করে। এভাবে ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে ২৫ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে ইসরাতের মৃত্যু হয়। তখন আল আমিন জমাদার ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণ জানতে চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। তাই অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় শিশু ইসরাতের মুত্যু হয়েছে দাবি করে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা ও প্রতিকার পেতে আল-আমিন জমাদ্দার আদালতে মামলা করেন।