তিনি বলেন, ‘বি. চৌধুরী জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও মন্ত্রী ছিলেন। সে সময় স্বীকৃত রাজাকার শাহ আজিজ এবং যুদ্ধাপরাধী আবদুল আলিমও সংসদে ছিলেন। ১৯৭৩ সালেও তারা বিচারের সম্মুখীন হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, স্বীকৃত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও আবদুল আলিম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে মারা যান।
শামীম বিন সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনে (পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠী) থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মেজ ছেলে। শামীম সাঈদী ঢাকা দক্ষিণের জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তাদের বাড়ি পিরোজপুর-২ আসনের ইন্দুরকানী উপজেলায় হলেও তিনি পিরোজপুর সদর আসন থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সংগঠনের সিদ্ধান্ত।’
শামীম বিন সাঈদী দাবি করেন, ‘জামায়াত নেতাদের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে তা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও পরিষ্কারভাবে বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ থেকে ৬ জন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তা। তারা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পরিচিত নাম। তাদের রাজনৈতিক জীবনও প্রায় ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। আজ আমরা সারাদেশের মানুষের মৌলিক বিষয় ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জাতীয় ঐক্য চাচ্ছি। সেখানে এই দল থাকলে হবে না, ওই দল থাকলে হবে না বলছেন তারা। তাদের কাছ থেকে আমরা অন্তত এটা আশা করিনি।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির মতো একটা বড় দল যদি তাদের জোটের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের কাছে যেতে পারে, তাহলে তাদেরও (ঐক্য প্রক্রিয়া) কিছু ত্যাগ করে আসা উচিত।’
শামীম বিন সাঈদী বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগও একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করতে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। এবার জাতীয় ঐক্য গড়ার ক্ষেত্রে আ স ম আব্দুর রবের মতো চার খলিফার এক খলিফা কোনও আপত্তি জানাননি। অথচ আপত্তি জানালেন বিকল্পধারার মাহী বি. চৌধুরী। ওনারা আসলে কী করতে চান তা এখন মানুষ সন্দেহের চোখে দেখছেন।’
তিনি বলেন, ‘নৌকায় যারা ভোট দেবেন তারাও ভোট দিতে পারছেন না। ১৫৪ আসনে সংসদ সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস! তার মানে কি আমার ভোট আমি দিতে পেরেছি?’
পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতেই কি সেখানে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম বিন সাঈদী বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রাখা উচিত। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সঙ্গে অতীতেও সুসম্পর্ক ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
শামীম বিন সাঈদী বলেন, ‘আমার বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের সাঈদখালীতে হলেও সংগঠনের সিদ্ধান্তে পিরোজপুর সদর আসন থেকে নির্বাচন করবো।’
তিনি বলেন, আমার বাবা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিরোজপুরে দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। সে সময় তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। এলাকায় তিনি কাজ করতে গিয়ে কে কোন দল এটা চিন্তা করেননি। এ কারণে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী।
/জেবি/টিএন/