বিএনপি প্রার্থী সান্টুসহ ১০৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১৬

বরিশাল

বরিশাল-৩ আসনের (বানারীপাড়া-উজিরপুর) বানারীপাড়ায় গুলি বর্ষণ এবং হামলায় আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী আহতের ঘটনায় গত সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার ১৬ জনকে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল হক তালুকদার।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহামুদ মাহাবুব মাস্টার, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শাহ আলম মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি কাউন্সিলর আহসান কবির, পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান জুয়েল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আবুল কালাম আজাদ, আলমগীর হোসেন, মাসুদ শেখ, রফিকুল ইসলাম সরদার, মো. বাবুল, মোজাম্মেল হোসেন গোমস্তা, শহিদুল ইসলাম, শরীফ বাহাদুর, সাইদুল ইসলাম, লিটন বেপারি, আয়নাক হক, মোকাদেস বেপারি, ফজলুল হক ও বাবুল মিয়াসহ ১৬ জন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ, গত সোমবার বিকেলে গুরুতর আহত শাহিন সরদার যুবলীগ নেতা দুলাল তালুকদারের মোটরসাইকেলে করে বাসস্ট্যান্ড হয়ে পৌর শহরে এসে ঢুকে। এ সময় তাদের মোটরসাইকেলের সামনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহে আলমের নৌকা প্রতীকের লিফলেট লাগানো দেখে সান্টু সমর্থিত ক্যাডাররা লাঠি নিয়ে পেটাতে শুরু করে। এতে তারা দু’জনেই গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০/১২ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমদ সান্টু ও তার সঙ্গে থাকা অপর দু’জন গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের এলোপাথারি পেটাতে থাকে। তারা যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম দুলাল, মশিউর রহমান সুমন, ইব্রাহিম মৃধা, শাহি সরদার, ছাত্রলীগ নেতা সুমন মোল্লা, রাহাদ মাল, রাজু খান, সুজন খান, আনোয়ার হোসেন, মিন্টু ও আল আমিন সিকদারসহ ১১ জনকে পিটিয়ে আহত করে। এছাড়াও বিএনপি ক্যাডাররা যাওয়ার সময় নারায়ণপুর আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করে।

বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমদ সান্টু বলেন,‘আমি ও আমার নেতাকর্মীরা মাইর খেলাম আবার আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা হলো। কোথায় বাস করছি বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরও বলেন,‘এখন আমি পলাতক অবস্থায় আছি। জামিন নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামবো।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বানারীপাড়া থানার ওসি খলিলুর রহমান বলেন, ‘সোমবার রাতেই এ মামলার এজাহারভূক্ত ১৬ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’