আবেদনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হোসাইন মোশরেফ সাকু উল্লেখ করেছেন, গত শনিবার (২৩ মার্চ) রাত সারে ১০টার দিকে হলতা গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী বাজারে নির্বাচনি পথসভা শেষে ফেরার পথে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনের ভাই আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তার (সাকুর) ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি ও গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম ঝনোসহ ২০ জন আহত হন। এরমধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করায় সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে গুলিশাখালী বাজারে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে জনি তালুকদার আহত হন। পরে তাকে বরিশালে নেওয়ার পথে জনি মারা যান।
সাকু তার আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাচনি পরিবেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুয়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনও মুহূর্তে ফের মঠবাড়িয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে এর দায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর পড়বে। এ কারনে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় নির্বাচ স্থগিত রাখা জরুরি।
এ আবেদনের কপি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জ, পিরোজপুরেরজেলা প্রশাসক, পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০১৯ কে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাকুর আবেদন পেয়েছি। নির্বাচন স্থগিত করা হবে কিনা সে বিষয়ে বিকাল পাঁচটার পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪নং টিকিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সাকু আহত হয়ে এখন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলায় আহত তার সমর্থক চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলমও ঢাকায় চিকিৎসাধীন। এছাড়া জনি তালুকদার হত্যা মামলায় মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস, আমাকে (মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪ নং টিকিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন) ও মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাকিল আহমেদ নওরোজসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা থাকায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আমরা কেউ এলাকায় গিয়ে প্রচারণা চালাতে পারছি না। এ কারণে আমরা নির্বাচন স্থগিত চাই।'