এদিকে শনিবার রাতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্লাস খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে মুখে তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে আবার ফিরে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন শিফাত বলেন, শনিবার সার্কিট হাউজের বৈঠক শেষে আমরা আমাদের দাবি উত্থাপন করেছি। সেখানে আমাদের দাবিটা ছিল ভিসির বাধ্যতামূলক ছুটি অথবা পদত্যাগ করার প্রমাণপত্র হাতে পেলেই ক্লাসে ফিরবো। সে বিষয়টির কোনও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরবো না। এ কারণে ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অনঢ় থেকে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।’
সকালে ক্যাম্পাসে আসা একাধিক শিক্ষক বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত পেয়ে আমরা ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে আসলেও একাডেমিক ভবনে তালা থাকায় ভেতরে যেতে পারিনি। তাছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকায় আমরা ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হই।
ভিসি’র পদত্যাগের দাবিতে টানা ১১ দিনের আন্দোলনের মাথায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গত শনিবার বিকালে আলোচনায় বসেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, সিটি মেয়রসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ববি সিন্ডিকেট কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় কমিশনারের আহ্বানে বরিশাল সার্কিট হাউজের হলরুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২৫ সদস্যের শিক্ষার্থী দল অংশগ্রহণ করেন। বিকাল চারটায় শিক্ষার্থীরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও এক ঘণ্টার ব্যবধানে বিকাল পাঁচটায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ভিসি’র পদত্যাগের প্রমাণপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৈকালিক চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণা না জানানোর প্রতিবাদকারীদের ভিসি প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হক রাজাকার বলায় এর প্রতিবাদ ও ভিসির উক্তি প্রত্যাহারসহ ১০ দফা দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে গত ২৭ মার্চ থেকে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে ওই আন্দোলন ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।