ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা: দুই বন্ধুর যাবজ্জীবন

কারাদণ্ডবরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আরজি কালিকাপুর গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মুক্তাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় দুই বন্ধুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনালের বিচারক মো. শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো—আরজি কালিকাপুর গ্রামের মনির খান ও একই এলাকার রুবেল মীর। রায় ঘোষণাকালে প্রধান আসামি মনির উপস্থিত থাকলেও রুবেল পলাতক রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ধর্ষকদের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল মুক্তার পরিবারের। ২০১২ সালের ২৯ জুলাই রাতে মুক্তা পাশে বান্ধবী সুমীর বাসায় টেলিভিশন দেখতে যায়। পরে আর সে বাড়ি ফেরে না। পরদিন সুমীদের বাড়ির রান্নাঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মুক্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা দায়ের হলেও পরে ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়।

হত্যা ও ধর্ষণের আলামত পাওয়ার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার এসআই সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। এয়ারপোর্ট থানার দুই এসআইকে পর্যায়ক্রমে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ায় বাদী নারাজি দিলে আদালত সর্বশেষ সিআইডিতে মামলাটি হস্তান্তর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় ওসি আল মামুন উল ইসলামকে।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মনির ও রুবেলকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাতে সুমীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা মনির ও রুবেল মুক্তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর গলাটিপে হত্যা করে লাশ সুমীদের বাড়ির রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। ২৬ জনের সাক্ষ্য শেষে বিচারক আজ এ রায় দিলেন।