সরেজমিন ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চর সুলতানী গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন টিউবওয়েলে শব্দ শোনা যাচ্ছে। তিন জন গত দেড় মাসে এলাকায় ৩টি শ্যালো টিউবওয়েল বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
তাদের মধ্যে ওই এলাকার জমাদ্দার বাড়ির আজিজুর রহমান জমাদ্দার বলেন,‘পরিবারের সুবিধার জন্য একটি শ্যালো টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কল শ্রমিকরা মাটিতে ২৫ ফিট পাইপ বসানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বেগে পানি উঠতে শুরু করে। এছাড়াও পানি থেকে এক ধরনের গন্ধ বের হতে থাকে। শ্রমিকদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপের সামনে আগুন ধরিয়ে দেখে দাউ দাউ করে জ্বলছে। তখন তারা আমাকে জানায় এখানে গ্যাস আছে। আমি ভয় পেয়ে তাদের অন্য স্থানে কল বসাতে বলি। সেখানেও পাইপ বসাতে গিয়ে একই ঘটনা ঘটে। এখন টিউবওয়েল ওভাবেই পড়ে আছে।’
একই এলাকার সাইফুল ব্যাপারী জানান, ১ মাস আগে তার বাড়ির উঠানে একটি শ্যালো টিউবওয়েল বসানোর পর দেখেন সেখান থেকে গড় গড় শব্দ হচ্ছে ও গন্ধ বেরুচ্ছে। ভয় পেয়ে সাইফুল ব্যাপারী টিউবওয়েলের পাইপ তুলে ফেলেন। পরে মাটি ও বালু দিয়ে গর্ত বন্ধ করে ফেলেন।
তিনি আরও জানান, তার বাড়িতে গ্যাস উঠছে এ খবর শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসেন। পরে তারা তা পরীক্ষা করার জন্য ওই গর্তের মুখে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে পানি দিয়ে অনেক কষ্ট করে তারা আগুন নিভায়।
হানিফ বয়াতি জানান, তিনি ১৫ দিন আগে শ্যালো টিউবওয়েল বসিয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। এলাকার লোকজন এ খবর শুনে বাড়িতে এসে ওই টিউবওয়েলে আগুন ধরিয়ে পরীক্ষার নামে আনন্দ করে। তারা এ নিয়ে ভয়ে আছেন বলে জানান।
মো. ফরিদ মিয়া বলেন, সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে আমরা উপকৃত হবো। গ্যাস উত্তোলন হলে একদিকে যেমন এ এলাকার বেকার সমস্যা মিটবে, অন্যদিকে আমরাও রান্নায় গ্যাস ব্যবহার করতে পারবো।
স্থানীয় রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান জানান, গ্যাস ওঠার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি সরেজমিন ওই এলাকা ঘুরে এসেছি। ধারণা করছি মিথেন জাতীয় কোনও গ্যাস হবে। এটি বড় কোনও গ্যাসের খনি নয়।’
ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, আমরা বিষয়টি শুনেছি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি টিম সরেজমিন ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবো। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
উল্লেখ্য, ভোলার বোরহানউদ্দিন ও সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকায় দুটি গ্যাসফিল্ড রয়েছে। ওই ফিল্ড থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।