রবিবার (৫ জানুয়ারি) ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের রাস্তার মাথা এলাকার আলু ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা সেচ মেশিন দিয়ে বৃষ্টির পানি সরানোর চেষ্টা করছেন।
কৃষক ফজলু, আলমগীর, হাসেম, ইমাম ও হোসেন মিয়া জানান, এ বছর বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা ধার-দেনা ও ঋণ করে জমিতে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু, গত দুই বছরের ন্যায় এবারও টানা তিন দিনের বৃষ্টির পানিতে পুরো ফসলের মাঠ পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ ফসল ক্ষতি হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, আজ পর্যন্ত কৃষি বিভাগের কোনও কর্মকর্তা তাদের খোঁজখবর নেননি।
ইলিশা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলু চাষি রজব আলী ও নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিন বছর ধরে আলু চাষ করি। কখনও কৃষি অফিসের কাউকে দেখিনি।’
ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র কুন্ডু জানান, তিনি রবিবার সকালে সেখানে গিয়েছেন।
কোথায় গিয়েছেন? আপনার এলাকার মধ্যে কোথায় বেশি ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে গৌতম চন্দ্র কুন্ডু বলেন, ‘আমিতো সদরে থাকি, এখন যাবো সেখানে।’
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভোলা সদর উপজেলায় মোট ১৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষিরা আলু আবাদ করেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ইলিশা, শিবপুর, ধনিয়া, ভেলুমিয়া, চরসামাইয়াতে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে আলুক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। পানি সরানোর কোনও ব্যবস্থা না থাকায় মাঠজুড়ে শুধুই বৃষ্টির পানি। তবে কিছু কৃষক নিজ উদ্যোগে সেচ বাঁধ দিয়ে পানি সরাচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বিনয় দেবনাথ জানান, তিন দিনের বৃষ্টির পানিতে কৃষকের কিছু আলুর ফলন ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মাঠ কর্মকর্তাকে কৃষকেরা চেনেন না এই অভিযোগের বিষয়ে বিনয় দেবনাথ বলেন, ‘ওরা হয়তো ঠিক মতো মাঠে যায় না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’