এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন-উজ্জ্বল সমাদ্দার, রায়হান, ফজলে রাব্বি, বায়জিদ হোসেন ও আবুল কালাম।
স্থানীয় কাউন্সিলর জাকির মোল্লা জানান, সুমন একই এলাকায় ‘ড্রিমলাইফ’ মাদকাসক্ত কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি ছিল। পরবর্তীতে পরিবার অনুরোধ করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু বাড়ি আসার পর আগের মতো আচরণ করলে পরিবার থেকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে তাকে ধরে আনতে গেলে সুমনের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে সুমনের স্বজনদের সহায়তায় দড়ি দিয়ে হাত-পাঁ বেধে মারতে মারতে টানা-হ্যাচরা করে আনার চেষ্টা চালায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীরা। এতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সুমন।
তখন এলাকাবাসী সুমনের কাছে গিয়ে বুঝতে পরে সে মারা গেছে। এলাকাবাসী ওই কর্মচারীদের ঘিরে রাখে। বিষয়টি র্যাব-৮ এর নজরে আসলে তারা ৫ কর্মচারীকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে। সুমনকে উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা রিজিয়া বেগম জানান, সুমন অপ্রকৃতিস্থ ও মাদক সেবি থাকায় প্রায়শ আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা চাইতো। না দিলে সবাইকে মারধর করতো। তাকে এর আগে একবার পরিবার থেকে আবেদন করে কারাগারে রাখা হয়। ছয় মাস আগে ভর্তি করা হয় ওই নিরাময় কেন্দ্রে। একমাস আগে তাকে নিয়ে আসা হলে পুনরায় সে আগের মতো আচরণ শুরু করে। বুধবার দুপুরে পরিবার থেকে নিরাময় কেন্দ্রে আবেদন জানানো হয়। তার দাবি, যেভাবে সুমনকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা মেনে নেওয়ার মতো ছিল না। তাদের অত্যাচারেই আমার ছেলে মারা গেছে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ৫ কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।