রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকেই হাসপাতালে কোনও ইন্টার্ন চিকিৎসককে দেখা যায়নি। অফিস সময়ে হাসপাতালের রেজিস্টার, সকহারী রেজিস্ট্রার এবং সিএগণ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার হাসপাতালে রোগী ছিলে ১ হাজার ৪৪৭ জন। এর মধ্যে নানা অসুস্থতার কারণে ১৯ জন রোগীর মৃত্যু হয়।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী ছিলে ১ হাজার ৫৭৯জন। এর মধ্যে ওইদিন মৃত্যু হয় ১০ জনের। হাসপাতালে মোট ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা ১৯০ জন। চিকিৎসক ৯৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা দেন ৯০ জন। বাকি ৫ জন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মূলত রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। ৩ দফা দাবিতে শনিবার দুপুর ২টা থেকে ঘোষণা দিয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
মেডিসিন বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহমেদ শফি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হচ্ছেন হাসপাতালের প্রাণ। তারাই রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কিন্তু গত ২ দিন ধরে তারা কর্মবিরতিতে থাকায় রোগীদের চিকিৎসায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যতটা সম্ভব তারা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে জানান, রোগীদের কষ্ট দেওয়া বা তাদের জিন্মি করা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য নয়। তবে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারসহ ৩ দফা দাবি মেনে নিলেই তারা কাজে ফিরবেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নমনীয় হতে হবে। রোগীদের কথা চিন্তা করে হলেও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে ফিরবেন বলে প্রত্যাশা তার।
প্রসঙ্গত, ২১ অক্টোবর হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর রেজিষ্ট্রার ডা. মাসুদ খান শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সভাপতি সজল পান্ডে এবং সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে পরিচালক বরাবরে অভিযোগ করেন। ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে। সবশেষ ৩০ অক্টোবর ডা. মাসুদ খান কোতোয়ালি মডেল থানায় ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।