ক্লিনিকে সন্তানসহ মায়ের মৃত্যু: দুই আয়া কারাগারে

সন্তানসহ নিহত মা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাগধা রেড ক্রিসেন্ট মাতৃ সদন ক্লিনিকে মা ও সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দুই আয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।সোমবার (৯ নভেম্বর) রাতে নিহতের স্বামী মন্টু বাহাদুর বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। 

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে আটক দুই আয়াকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামিরা হলেন-উপজেলার পশ্চিম বাগধা গ্রামের ফারুক হোসেন মিয়ার স্ত্রী রাশিদা বেগম ও মান্নান খানের স্ত্রী মায়া বেগম।  

নিহত সীমা বেগম (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ চাঁদত্রিশিরা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মন্টু বাহাদুরের স্ত্রী। চতুর্থ সন্তানের প্রসব বেদনা শুরু হলে সোমবার সকাল ৭টার দিকে তাকে রেড ক্রিসেন্ট মাতৃ সদন ক্লিনিকে নেওয়ার পর গর্ভের সন্তানসহ মারা যান সীমা। সীমা বেগমের পূর্বে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। 

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজারুল ইসলাম জানান, ওই ক্লিনিকে কোনও রেজিস্ট্রার চিকিৎসক না থাকার পরও সেখানে কর্মরত আয়া রাশিদা ও মায়া সন্তান সম্ভবা সীমা বেগমের ডেলিভারি করাতে গিয়ে গর্ভের সন্তানসহ সীমার মৃত্যু হয়। বিষয়টি সীমার স্বজনদের কাছে গোপন রেখে অন্যত্র নিয়ে ডেলিভারির কথা বলে আয়ারা দ্রুত সটকে পড়েন। সীমাকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রব হাওলাদার ও থানা অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম ছরোয়ার হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে আয়াদের আটক এবং ময়নাতদন্তের জন্য নিহত সীমার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। 

মামলা দায়েরের পর ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে সীমার মরদেহ শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে আটক আয়াদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠান।

তিনি আরও জানান, সোমবার ঘটনার পরই ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।