আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইট পোড়ানোসহ সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বাউফল উপজেলার বগা লঞ্চঘাট এলাকা সংলগ্ন জোয়ার গরবদি মৌজার ‘মেসার্স হাওলাদার’ নামক অবৈধ ইটভাটা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রশাসন ইটভাটাটির একাংশ ভেঙে তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা আমলে নেয়নি ভাটা কর্তৃপক্ষ। বরং দিনে বন্ধ রেখে রাতের আধাঁরে চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। এ অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা ভাঙার নির্দেশ থাকলেও সরঞ্জামের অভাবে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে বগা ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান হাওলাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছিলেন। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে বাউফল উপজেলার রাজনগর এলাকার মো. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে রিট পিটিশন দায়ের করলে হাইকোর্ট ১৮২২০/২০১৭নম্বর রিট পিটিশনের ০৪.০৪.২০১৮ তারিখের আদেশে জোয়ার গরবদি মৌজায় মেসার্স হাওলাদার ব্রিকস্ অবৈধ ঘোষণা করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই নির্দেশ পেয়ে গত ২১ জানুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ’র নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ‘মেসার্স হাওলাদার ব্রিকস্-এর কাচা ইটসহ আংশিক স্থাপনা ভেঙে দেয়। এসময় ইটভাটা ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের মধ্যে বাকি স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।
কিন্ত প্রভাবশালী ইটভাটা কর্তৃপক্ষ স্থাপনা না সরিয়ে বরং দিগুণ উৎসাহে তাদের ইট তৈরি ও পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ইট ভাটার মালিক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান মাহমুদ হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুাহ সাদীদ বলেন, আমরা আদালতের চিঠি পেয়ে ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে আংশিক স্থাপনা ভেঙে দিয়েছি। আমাদের কাছে পুরো স্থাপনা ভাঙার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তাদেরকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুনেছি তারা কোনও স্থাপনা সরায়নি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অভিযান চালিয়ে পুরো ইটভাটা ধ্বংস করা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।