সুদের টাকার জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

সুদের টাকার জের ধরে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ এপ্রিল পটুয়াখালী জেলা শহরের অদূরে জৈনকাঠি ইউনিয়নের ভাগিরাবাদ গ্রামের এমন ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কায়েশ স্থানীয় দুলাল তালুকদারের ছেলে।

নিহত গৃহবধূর নাম পূর্ণিমা রানী। তার স্বামীর নাম রাখাল ভদ্র।

পূর্ণিমার স্বামী রাখাল ভদ্র জানায়, ‘২০১৬ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় দুলাল তালুকদারের ছেলে কায়েশ তালুকদারের কাছ থেকে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা সুদে নেয় তিনি। জামানত বাবদ কায়েশকে দিতে হয় একটি অলিখিত স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক। প্রতি মাসে ৮% হারে টানা চার বছর সুদ দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেন তিনি। টাকা পরিশোধের পর চেক-স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়া হলে টালবাহানা শুরু করে কায়েশ। কিছুদিন পর রাখালের বাড়ি ও জমি লিখে নিতে নানাভাবে প্রভাবিত করে কায়েশ। এতে রাখাল আপত্তি জানালে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সেহাকাঠি বাজারে প্রকাশ্যে মারধোর করে নীরব থাকার হুঁশিয়ারি দেয়।’

রাখাল অভিযোগ করে বলেন, ‘তাকে নানা হুমকির মুখে ফেলে খালাতো ভাই আব্দুল রাসেদের নামে ২৪ শতাংশ, বোন জামাতা রবের নামে ২১ শতাংশ এবং নিজের নামে ৬ শতাংশসহ মোট ৫১ শতাংশ জমি লিখে নেয় কায়েশ। লিখে নেয়া ওই জমি দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে কায়েশ গং। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জৈনকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে যায় রাখান ও তার স্ত্রী পূর্ণিমা রানীকে। অনেক মানুষের সামনে পূর্ণিমা রানীকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে নিয়ে রাখালকে ব্যাপক মারধোর করে গ্রাম ছাড়তে বলেন। নির্যাতনের তিন দিনের মাথায় বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয় রাখাল। তার অবর্তমানে কায়েম তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানুষিকভাবে নির্যাতন চালায়। সুদের টাকার সূত্র ধরে কায়েশ গং তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যা করে। পরিবারের দেওয়া খবরে শুনে আমি পিরোজপুর থেকে রওনা দিয়ে আসতে দেরি হয়। পটুয়াখালী পৌঁছে সদর থানার অবহিত করে এসআই শামীমকে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করি এবং মুখাগ্নি করে মাটিচাপা দিই পূর্ণিমার মরদেহ।’

অভিযোগ অস্বীকার করে কায়েশ তালুকদার বলেন, ‘উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নয়। টাকা দিয়ে জমি কিনেছি।’

ময়না তদন্তে দায়িত্বরত দুই চিকিৎসক বলেন, নিহতের কপালে রক্ত জখম, বাম বাহু এবং হাঁটুর নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতন হয়েছে কিনা তা এই মুহূর্তে বলার সুযোগ নেই। রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

পূর্ণিমার পরিবারের অভিযোগ, ৯ এপ্রিল লাশ উদ্ধার করে ১০ এপ্রিল ময়না তদন্ত করা হয়েছে। এর ফলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জৈনকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম বলেন, ‘রাখাল আমার এনজিওতে কর্মরত ছিল। সরল এবং বিশ্বস্ত ছিল। লোকমুখে এমন শুনে ঘটনাস্থলে আসি। কিন্তু ভিকটিম পরিবারের মুখে ভয়ের ছাপ দেখতে পাই। এলাকাবাসী বলছে, ঘটনার পর কায়েশ এলাকায় ছিল না। ১৩ এপ্রিল বাড়িতে এসে বলে বেড়ায় এতে কী হবে দেখা যাবে’।

মরদেহ উদ্ধারকারী সদর থানার এসআই শামীম এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে আগ্রহী নয়।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল খান মোহাম্মদ মুকিত হাসান বলেন, ভিকটিমের পক্ষ পুলিশকে এভাবে অবহিত করেনি। যাইহোক আমরা বিষয়টি নতুনভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোর্শেদ বলেন, এবিষয় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট আসেনি।

এবিষয় জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (প্রশাসন ও অপরাধ) বলেন, ডাক্তারি রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।