বরগুনার তালতলী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মামাকে কুপিয়ে জখমের পর ‘আত্মগোপনে’ থাকা মো. মাহফুজের (১৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গাবতলী গ্রামের একটি বাড়ির সামনে গাছে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। মাহফুজ বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবনগোলা এলাকার নিজাম হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাহফুজ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের ফজলু প্যাদাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। তার আপন মামা ফজলু প্যাদা। পারিবারিক বিরোধের জেরে কোপানোর ঘটনার পরপরই মাহফুজ ও তার মা কুলসুম বেগম বসতঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। মাহফুজ ও তার মা আত্মগোপনে থাকার জন্য গত ৪-৫ দিন আগে উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের পশ্চিম গাবতলী এলাকায় চাচার বাড়িতে আসেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু জানান, রবিবার রাত ১০টার দিকে মাহফুজের আরেক চাচা কাওসার হাওলাদারের বসতঘরের দক্ষিণ পাশে গাছে মাহফুজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে সবাইকে ডাক দেন বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী। পরে স্থানীয়রা এসে তালতলী থানা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন মাহফুজের বাবা নিজাম হাওলাদার। সোমবার (১ নভেম্বর) সকালে তিনি মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফজলু ও তার স্ত্রী প্রায়ই মাহফুজকে গালাগালি ও মারধর করতেন। ভয়ভীতি দেখাতেন। সর্বশেষ গত ২৬ অক্টোবর ফজলুর স্ত্রীর বোনকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় আমার স্ত্রীর গলা চেপে ধরে এবং পানিতে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করে ফজলু। এক পর্যায়ে হাতে কোপ দিলে ফজলুর হাতে থাকা দা দিয়ে তাকে আঘাত করে মাহফুজ। এতে ফজলু আহত হয়। ঘটনার পর তার চিকিৎসা খরচ আমিই বহন করেছি।’
তিনি আরও আরও বলেন, ‘মারামারির ঘটনার পর থেকেই ফজলুর স্ত্রীর বেপরোয়া ভাইয়েরা মাহফুজকে খুঁজতে থাকে। বিভিন্ন লোকজন দিয়ে হুমকি-ধামকি দিচ্ছিলো তারা।
সোমবার সকালে মাহফুজের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়। এ সময় হাসপাতালের সামনে মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা কুলসুম বেগম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছেলের সামনে মাকে মারলে কোনও ছেলে কি তা দেখতে পারে? পারে না। আমার ছেলেও পারেনি। ফজলু আমাকে দা দিয়ে কোপ দিলে ওই দা দিয়ে তাকে কোপ দেয় মাহফুজ। আগে থেকেই আমাদের ঘরছাড়া করার চেষ্টা করে আসছিল ফজলু ও তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতিও দেখাতো। গতরাতে নামাজ পড়ছিলাম। তখন শুনি বাইরে মাহফুজের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।