বরিশালের আদালতপাড়ায় জাল জালিয়াতির মামলার আসামি বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আসামি শহিদুলের সমর্থক ও তার আইনজীবীর সহকারীদের হামলায় ক্যামেরাপারসনসহ কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আহত হন। এরমধ্যে ১৮ জন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকি দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা হলেন, ক্যামেরাপারসন শুভ হাওলাদার ও শফিক হোসেন; ফটোসাংবাদিক আহসান আকিব, শাফিন আহমেদ রাতুল, সুজন হাওলাদার, জিয়াদ, জুয়েল, সাইফুল ইসলাম, আবু কালাম আজাদ, সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, কামাল হোসেন, অপূর্ব বাড়ৈ ও লিটন মোল্লা; প্রথম সকাল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সুমাইয়া জিসান ও দৈনিক সুন্দরবন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মিজান পলাশসহ ২০ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফটোসাংবাদিকরা জানান, আজ (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে শহিদুলকে হাজত থেকে বের করে পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরাপারসন এবং স্থানীয় পত্রিকার ফটোসাংবাদিকরা ছবি তুলতে যান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান শহিদুলের সমর্থক এবং তার আইনজীবীর সহকারীরা বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে ছবি তোলার চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয়। এ সময় ফটোসাংবাদিকরা দৌড়ে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার চেষ্টা চালান। তখন চেয়ারম্যানের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে সাংবাদিকদের মারধর করেন। যারা দৌড়াতে গিয়ে সড়কে পড়ে গেছেন, তাদেরও মারধর করা হয়। দুই দফা ফটোসাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কবির উদ্দিন প্রামাণিক, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন ও বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যানের ছবি যেন কোনও সংবাদমাধ্যমে না যায় এ জন্য আগে থেকেই আইনজীবীর সহকারীদের সঙ্গে এক লাখ টাকা চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী আইনজীবীর সহকারীরা চেয়ারম্যান শহিদুলের ছবি তুলতে বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। আর আইনজীবীর সহকারীদের মদত দেয় চেয়ারম্যানের সমর্থকরা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, ‘আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।’
প্রসঙ্গত, বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাল জালিয়াতির মামলায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেয়ারম্যান শহিদুলসহ তার পাঁচ ভাইবোন হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান।