পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশে আ.লীগের হামলার অভিযোগ, আহত ৫০

পটুয়াখালীতে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিএনপির অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় আহতদের মধ্যে ১১ জনকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা পটুয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপির আহ্বানে বুধবার (২ মার্চ) জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, সকাল ১০টায় মিছিল নিয়ে শহরের বনানী চত্বরে পৌঁছালে মুকুল সিনামা হল সড়কে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আহত হয়। পরে তারা জড়ো হয়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিএনপির বনানী কার্যালয় থেকে সরকারি কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করে মিছিল নিয়ে বনানী চত্বরে পৌঁছায়। এ সময় উল্টো দিকে থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বিএনপির অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় একটি মোটরসাইকেল। 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সফিউল বাশার উজ্জল বলেন, আওয়ামী নামধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আমার হাতে ভেঙে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের সঙ্গে এক হয়ে আমাদের মারধর করেছে।

সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী মাহাবুব হোসেন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সভার আয়োজন করি। সকাল ১০টায় সভা শুরুর আগেই সাড়ে ৯টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে হামলা চালায়।

হামলায় বিএনপির অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত

অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, বিগত দিন থেকেই পটুয়াখালী বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আর এই দ্বন্দ্বে একাধিক হামলা ও সংঘাতের খবর সবাই জানে। নিজেদের কোন্দল আমাদের ওপর চাপিয়ে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা করছে বিএনপি। আজকের ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়।

জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান সজীব বলেন, যেকোনও ই্যসুতে বিএনপি নাটক করে আসছে। বিগত দিন থেকেই নিজেদের দ্বন্দ্ব আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আজকের ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নয়।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরা আক্তার তাপসি বলেন, হাসপাতালে ১৪-১৫ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েক জনকে ভর্তি করে চিতিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক।