বরিশাল সিটি মেয়র ও হাসপাতালের পরিচালকের আশ্বাসে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। একই সময়ে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখা ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। এর মধ্য দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে দুই পক্ষ সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয়।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সহপাঠীর চিকিৎসাসেবায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান শিক্ষার্থীরা। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষ ভাঙচুরসহ একাধিক ইন্টার্নকে মারধর করা হয়। এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবি জানান হাসপাতাল পরিচালকের কাছে। শনিবার রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত না আসায় রাত ৮টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের সব গেটে তালা লাগিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এদিকে, একই সময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে উভয় দিকের সড়কে যানজট লেগে যায়। সহপাঠীর মৃত্যুর জন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়ী করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম উভয় পক্ষকে শান্ত করলে রাত সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাকিন আহমেদ বলেন, সিটি মেয়র ও হাসপাতালের পরিচালকের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ নেবেন পরিচালক। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি মেয়রের হস্তক্ষেপে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ইসলামিয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চলছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইসলামিয়া কলেজ থেকে তিন বন্ধু বরিশাল সদর উপজেলার তালতলী যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে রওনা হন। মহাবাজ এলাকা পার হওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল গাছে ধাক্কা তিন বন্ধু আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হলে রিয়াদকে মৃত ঘোষণা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান শিক্ষার্থীরা।