ভিডিও ধারণ করে প্রতারণা, প্রাণ দিলেন যুবক

পটুয়াখালীতে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রমেন ঘরামি নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৯ জুন) বিকালে দশমিনা উপজেলার গোলখালী এলাকায় বিষপান করেন ওই যুবক। পরে তাকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান।

রমেন ঘরামি দশমিনা উপজেলার কাটাখালী গ্রামের রনজিত ঘরামির বড় ছেলে। পেশায় প্রসাধনী পণ্যের পাইকার ছিলেন।

রমেনের ছোট ভাই সুমন ঘরামি দাবি করেন, ‘দশমিনা সদরের নতুন ব্রিজের ঢালে বাবার পানের দোকানে বসে কাজ করছিলাম। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বড় ভাই রমেনের মোবাইল নম্বর থেকে অপরিচিত একজন কল করে বলে, তোমার ভাই বিষ পান করে গোলখালী নদীর পাড়ে পড়ে আছে। এই কথা শুনে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পথিমধ্যে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কী হয়েছে দাদা। তখন দাদায় কিছু বলতে চাইলেও মুখ ফেনায় আটকে যাচ্ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পটুয়াখালী রেফার্ড করা হলে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানকার চিকিৎসকরা দাদাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুর ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই সে মারা গেছে। তবে তার মুখে অনেক ফেনা জাতীয় পদার্থ ছিল এবং দুর্গন্ধও ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত জাতীয় কোনও কিছু পান করেছে সে। তবে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

রমেনের মেজো ভাই সমেন ঘরামি দাবি করেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে বসে বলেছে, ‘‘মিজানই আমাকে বিষ খেতে বাধ্য করেছে। ওর জন্যই আমি শেষ হয়ে গেলাম’’। আমাদের বাড়ির পূর্বপাশের জনৈক নুরু খার ছেলে মিজানুর রহমান।’

কিন্তু সে কি কাজ করে তা বলতে পারেননি। তবে পটুয়াখালী শহরে থাকে সে। সমেন দাবি করেন, কিছুদিন আগে পটুয়াখালী শহরের শেখ রাসেল শিশুপার্কের পাশে বাণিজ্য মেলা চলাকালে রমেনকে ডেকে নিয়ে যায় মিজান। রমেন আসার পর কোনও এক মেয়েকে দিয়ে ভিডিও করে রাখে মিজান।

এদিকে, বিষ পানের পর গোলখালী নদীর পাড়ে অসুস্থ অবস্থায় ছটফট করতে থাকেন রমেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘একটা মাইয়ারে দিয়া আমার দুই লাখ টাকা নিছে। এহন খালি ফোন দেয় খালি টাহা দে টাহা দে। আমার কাছে দেওয়ার মতো টাকা নাই। আমারে মাইয়াডারে দিয়া জোর কইরা রাস্তায় বইয়া ভিডিও কইরা ছাইড়া দেছে। আমাদের বাড়ির দহিনদারে বাড়ি। সেই জন্য আমি বিষ খাইছি।’ রমেন ছটফট করতে করতে এসব কথা বলার সময় পাশ থেকে একজন ভিডিও ধারণ করে যোগাযোগমাধ্যম দেসবুকে ছেড়ে দেয়। ইতিমধ্যেই তা ভাইরাল হয়েছে।

রমেনের খালাতো ভাই সুমন দাবি করেন, ‘ওর সঙ্গে প্রতারণা করার কারণেই বিষ খেয়ে মারা গেলো। রমেন একটা নিরীহ ছেলে। ওর সঙ্গে এমন করাটা ঠিক হয়নি মিজানের।’

দশমিনা থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, ‘বিষ খাওয়ার খবর লোকমুখে শুনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পটুয়াখালী রেফার্ড করা হয়েছে। পরে শুনেছি, সেখানে নাকি সে মারা গেছে। এ বিষয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। তাছাড়া লিখিত অভিযোগ দিলেও সেটি এখন দিতে হবে পটুয়াখালী সদর থানায়। যেহেতু সে মারা গেছে পটুয়াখালী সদর থানার আওতার মধ্যে।’

তিনি বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি, মেয়েলি কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নাকি কেউ হয়রানি করেছে। কিন্তু কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। তারপরও বিষয়টি অনুসন্ধান করছি।’

সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতারণার যে অভিযোগ সেটিও আমরা যাচাই করে দেখছি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’