ফেনসিডিলসহ আটক পাঁচ মাদক বিক্রেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৫ জুলাই) বিকালে বিভাগীয় বরিশালের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মেহেদি আল মাসুদ এ রায় দেন।
দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি এলাকার ইসাহাক হাওলাদারের ছেলে কামরুজ্জামান, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার আলতাফ সরদারের ছেলে আওলাদ হোসেন, নগরীর উপকণ্ঠ বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার নিজাম চাপরাশির ছেলে মোস্তফা চাপরাশি, নগরীর ভাটারখাল এলাকার সিরাজ সিকদারের ছেলে রাকিব ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব কালিকা প্রসাদ এলাকার ফজলুর রহমানের কন্যা পপি।
রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আওলাদ ও পপি উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদালতের স্পেশাল পিপি একেএম আমিনুল ইসলাম সেন্টু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল রাতে গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফেনসিডিল বোঝাই বস্তা স্পিডবোটে রেখে পালানোর চেষ্টা করে মাদক বিক্রেতারা। তখন ঘাট সংলগ্ন ড্রেজারের পাইপে স্পিডবোট আটকে পড়ে। তখন পাঁচ মাদক বিক্রেতা স্পিডবোট থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পাঁচ জনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওই রাতে গৌরনদী থানার এসআই অসিম মজুমদার বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ১১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরনদী থানার এসআই আসাদুল হক গৌরনদীর বাসিন্দা মাসুদ ও সায়েমকে অন্তর্ভুক্ত করে সাত জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ ও সায়েমকে খালাস দিয়ে ওই পাঁচ জনকে কারাদণ্ড দেন।